দীর্ঘদিনের জয়েন্টের ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যায় আধুনিক চিকিৎসা
জয়েন্ট আমাদের শরীরের নড়াচড়া ও দৈনন্দিন কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বয়সজনিত ক্ষয়, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, পুরোনো আঘাত বা অন্যান্য সমস্যার কারণে কোনো জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যথা, শক্ত হয়ে যাওয়া এবং চলাফেরায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
যখন ওষুধ, ফিজিওথেরাপি, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন বা অন্যান্য চিকিৎসায় পর্যাপ্ত উপকার পাওয়া যায় না এবং জয়েন্টের সমস্যা দৈনন্দিন জীবনকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে, তখন কিছু রোগীর ক্ষেত্রে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি বিবেচনা করা হতে পারে।
জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি কী?
সহজভাবে বললে, কোনো জয়েন্টের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ এতটাই নষ্ট হয়ে গেলে যে ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যা দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে, তখন সার্জারির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিবর্তে কৃত্রিম জয়েন্ট বা ইমপ্ল্যান্ট বসানোকে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি বলা হয়।
সবচেয়ে বেশি করা হয় হাঁটু ও হিপ জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট। হাঁটুর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জয়েন্ট বা নির্দিষ্ট অংশ প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। হিপ রিপ্লেসমেন্টে হিপ জয়েন্টের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিবর্তে উপযুক্ত কৃত্রিম উপাদান বসানো হয়।
কেন জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে?
জয়েন্টের কার্টিলেজ বা অন্যান্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাড়ের স্বাভাবিক মসৃণ নড়াচড়া ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে ব্যথা, শক্তভাব এবং চলাফেরার সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।
জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের অন্যতম সাধারণ কারণ হলো অস্টিওআর্থ্রাইটিস। এছাড়াও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, পুরোনো আঘাত বা দুর্ঘটনার কারণে জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এই সার্জারি বিবেচনা করা হতে পারে।
কীভাবে বুঝব জয়েন্টের সমস্যা গুরুতর হয়ে যাচ্ছে?
নিচের সমস্যাগুলো থাকলে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে:
- দীর্ঘদিন ধরে জয়েন্টে ব্যথা থাকা
- হাঁটা বা দাঁড়ানোর সময় ব্যথা বেড়ে যাওয়া
- সিঁড়ি ওঠানামা বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হওয়া
- জয়েন্ট শক্ত বা নড়াচড়া সীমিত হয়ে যাওয়া
- বিশ্রামের সময়ও ব্যথা বা অস্বস্তি থাকা
- ব্যথার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া
- অন্যান্য চিকিৎসা নেওয়ার পরও পর্যাপ্ত উপকার না পাওয়া
তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট লাগবে, এমন নয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা, সমস্যা কতটা গুরুতর এবং অন্যান্য চিকিৎসার ফলাফল বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।
হাঁটু রিপ্লেসমেন্ট কী?
হাঁটুর জয়েন্টের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিবর্তে কৃত্রিম উপাদান বসানোর সার্জারিকে Knee Replacement Surgery বলা হয়।
ক্ষতির মাত্রা ও অবস্থার ওপর নির্ভর করে Total Knee Replacement অথবা Partial Knee Replacement করা হতে পারে। Total Knee Replacement-এ হাঁটুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর প্রধান অংশ প্রতিস্থাপন করা হয়, আর Partial Replacement-এ ক্ষতিগ্রস্ত অংশের নির্দিষ্ট অংশ প্রতিস্থাপন করা হয়।
হাঁটু রিপ্লেসমেন্টের পর কী উপকার হতে পারে?
চিকিৎসার উদ্দেশ্য সাধারণত—
- হাঁটুর ব্যথা কমাতে সহায়তা করা
- হাঁটুর নড়াচড়া ও কার্যকারিতা উন্নত করা
- চলাফেরার সক্ষমতা বাড়ানো
- দৈনন্দিন কাজকর্ম সহজ করা
- জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়তা করা
তবে প্রত্যেক রোগীর ফলাফল একরকম হয় না এবং সার্জারির ফলাফল রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য, জয়েন্টের অবস্থা, পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
হিপ রিপ্লেসমেন্ট কী?
হিপ হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ Ball-and-Socket Joint। হিপের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিবর্তে কৃত্রিম উপাদান বসানোর সার্জারিকে Hip Replacement Surgery বলা হয়।
হিপের গুরুতর ক্ষয়, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, নির্দিষ্ট ধরনের আঘাত বা অন্যান্য সমস্যার কারণে ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যা তৈরি হলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী হিপ রিপ্লেসমেন্ট বিবেচনা করতে পারেন।
জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট কি সবার জন্য প্রয়োজনীয়?
না। জয়েন্টে ব্যথা হলেই জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট করতে হয় না। সাধারণত প্রথমে রোগীর সমস্যা ও কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপি, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং অন্যান্য নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা বিবেচনা করা হয়।
এসব চিকিৎসায় পর্যাপ্ত উপকার না হলে এবং ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যা জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেললে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
সার্জারির আগে কী কী পরীক্ষা বা প্রস্তুতি দরকার?
জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট একটি পরিকল্পিত সার্জারি। তাই অপারেশনের আগে রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও জয়েন্টের অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়।
রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী করা হতে পারে:
- শারীরিক পরীক্ষা
- রক্ত পরীক্ষা
- X-ray
- অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইমেজিং
- হৃদ্যন্ত্র বা অন্যান্য শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন
- অ্যানেস্থেশিয়ার জন্য প্রি-অপারেটিভ মূল্যায়ন
কোন কোন পরীক্ষা প্রয়োজন হবে তা রোগীর বয়স, স্বাস্থ্য ও রোগের অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারির সময় কী হয়?
সহজভাবে বললে, সার্জারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত জয়েন্টের অংশ অপসারণ করে তার পরিবর্তে উপযুক্ত কৃত্রিম ইমপ্ল্যান্ট বসানো হয়।
হাঁটু বা হিপের কোন অংশ কতটুকু প্রতিস্থাপন করা হবে, কোন ধরনের ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করা হবে এবং কোন সার্জিক্যাল পদ্ধতি উপযুক্ত হবে—এসব সিদ্ধান্ত রোগীর জয়েন্টের অবস্থা ও অন্যান্য শারীরিক বিষয় বিবেচনা করে নেওয়া হয়।
সার্জারির পর কি সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা যায়?
সাধারণত সময় লাগে।
জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের পর ধীরে ধীরে হাঁটা, নড়াচড়া এবং নির্ধারিত ফিজিওথেরাপি বা পুনর্বাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুনরুদ্ধারের সময় রোগীভেদে ভিন্ন হতে পারে।
কত দ্রুত স্বাভাবিক কাজে ফেরা যাবে তা নির্ভর করে—
- কোন জয়েন্টে সার্জারি হয়েছে
- সার্জারির ধরন
- রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য
- সার্জারির আগে শারীরিক সক্ষমতা
- চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা
- ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনের ওপর
হাঁটু রিপ্লেসমেন্টের পর অনেক রোগীকে শুরুতে হাঁটার সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করতে হতে পারে এবং ধীরে ধীরে চলাফেরা বাড়ানো হয়।
জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের পর কি ফিজিওথেরাপি দরকার?
অনেক ক্ষেত্রেই পুনর্বাসন ও নির্ধারিত ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ।
সার্জারির পর জয়েন্টের নড়াচড়া, পেশির শক্তি এবং দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী পুনর্বাসন পরিকল্পনা করা হয়। রোগীর জন্য কোন ব্যায়াম কখন এবং কতটা করা নিরাপদ, তা চিকিৎসা দলের নির্দেশনা অনুযায়ী হওয়া উচিত।
জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট কি ঝুঁকিমুক্ত?
কোনো বড় সার্জারিই সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়।
জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রেও ব্যথা, সংক্রমণ, রক্ত জমাট বাঁধা, জয়েন্টের নড়াচড়া বা ইমপ্ল্যান্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা হতে পারে। ঝুঁকি ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয় এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও সার্জারির ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
তাই সার্জারির আগে চিকিৎসকের সঙ্গে সম্ভাব্য সুবিধা, ঝুঁকি, বিকল্প চিকিৎসা এবং প্রত্যাশিত পুনরুদ্ধার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
ডাঃ খ. নাফিজ রহমান কেন?
ডাঃ খ. নাফিজ রহমান আর্থ্রোস্কপি, আর্থ্রোপ্লাস্টি ও অ্যাডভান্সড ট্রমা সার্জনের পাশাপাশি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর/পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকায় সহকারী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক সার্জারি) হিসেবে কর্মরত।
জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারিসহ অর্থোপেডিক সার্জারির বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর ৯+ বছরের চিকিৎসা অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি ২,৫০০+ সার্জারির অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
রোগীর জয়েন্টের সমস্যা, শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণে তিনি গুরুত্ব দেন।
কখন একজন অর্থোপেডিক সার্জনের পরামর্শ নেবেন?
যদি দীর্ঘদিনের হাঁটু বা হিপের ব্যথার কারণে—
- হাঁটতে সমস্যা হয়
- সিঁড়ি ওঠানামা কঠিন হয়ে যায়
- দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়
- জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায়
- ঘুম বা বিশ্রামে সমস্যা হয়
- চিকিৎসা নেওয়ার পরও সমস্যা নিয়ন্ত্রণে না আসে
তাহলে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
মনে রাখবেন, জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ব্যথার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয় না। রোগীর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পূর্ববর্তী চিকিৎসার ফলাফল বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।
ডাঃ খ. নাফিজ রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করুন
আর্থ্রোস্কপি, আর্থ্রোপ্লাস্টি ও অ্যাডভান্সড ট্রমা সার্জন
ডাঃ খ. নাফিজ রহমান
সহকারী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক সার্জারি)
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর/পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা
অভিজ্ঞতা: ৯+ বছর
সার্জারির অভিজ্ঞতা: ২,৫০০+
চেম্বার
অমনিকেয়ার ডায়াগনস্টিক লিমিটেড
২২০/এ, বেগম রোকেয়া সরণি, শেওড়াপাড়া, ঢাকা–১২০৭
শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশন, পিলার নং ৩২৪-এর পূর্ব পাশে।
রাজশাহী সেন্ট্রাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ইউনিট
মাহবুব প্লাজা, তৃপ্তি হোটেলের উত্তর পাশে, গ্রেটার রোড, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী।
বৃহস্পতিবার: বিকাল ৫টা–রাত ৮টা
শুক্রবার: সকাল ১০টা–রাত ১০টা
ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, রাজশাহী শাখা
হাউস #২২৩ ও ২২৪, কাজিহাটা, টেলিভিশন সেন্টারের বিপরীত পাশে, রাজপাড়া, রাজশাহী।
বৃহস্পতিবার: রাত ৮টা–১০টা
শুক্রবার: সকাল ১০টা–রাত ১০টা
সিরিয়াল ও তথ্যের জন্য
০১৯১১-৯৭৯৩৯৩
যেকোনো চেম্বারে সিরিয়াল নিতে বা চেম্বারের সময়সূচি ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য জানতে এই নম্বরে যোগাযোগ করুন।